রাজ্যে সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে প্রশাসন। প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে নির্দিষ্ট বয়স্ক ও দুঃস্থ নারীরা বিধবা ভাতার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা পেতে পারেন। এই মর্মে উপভোক্তাদের নিজস্ব পছন্দ জানানোর স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও সুচারুভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।
এই বদল বা বিকল্প বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজ্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। অতীতে এই বিষয়ে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে দুই কল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে সুবিধাভোগীরা কীভাবে নিজেদের পছন্দ মতো একটিকে বেছে নিতে পারবেন। বর্তমান নির্দেশিকা সেই ঘোষণাকেই বাস্তবায়িত করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। ফলে বহু প্রবীণা ও অসহায় নারী এখন তাদের আর্থিক সহায়তা বা খাদ্য নিরাপত্তার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন।
পছন্দ জানানোর নির্দেশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
নতুন এই নিয়মের ফলে উপভোক্তাদের এখন সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে যে তারা বিধবা ভাতার সুবিধা বহাল রাখতে চান, নাকি অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় খাদ্যশস্য বা অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করতে পছন্দ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যোগ্য ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দ লিখিতভাবে বা নির্দিষ্ট ফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেবেন। এর ফলে সরকারি নথিপত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং একই ব্যক্তি যাতে দুটি প্রকল্পের ভুল সুবিধা না নেন, তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে সাধারণত যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের নির্দিষ্ট পরিমাণে খাদ্যশস্য বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, যা অনেক সময় সরাসরি নগদ ভাতার চেয়ে আলাদা সুবিধা দেয়। অন্যদিকে, বিধবা ভাতার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট অংকের টাকা পাঠানো হয়। প্রশাসনের এই বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় উপভোক্তারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক প্রকল্প বেছে নিতে পারবেন। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং নিয়মাবলী মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রকল্পের পটভূমি ও বর্তমান পদক্ষেপ
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি বাড়াতে এবং সঠিক উপভোক্তার হাতে সাহায্য তুলে দিতে সরকার নিয়মিত নানা পদক্ষেপ করে থাকে। এর আগে বিভিন্ন জনসভায় বা সরকারি মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, একই পরিবারের বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একাধিক ভাতার সংঘাত এড়াতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই ধরনের সমন্বয় জরুরি। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ব্লক ও জেলা স্তরের প্রশাসন এখন বাড়ি বাড়ি বা পঞ্চায়েত অফিসের মাধ্যমে এই পছন্দ জানানোর ফরম্যাট পৌঁছে দিচ্ছে।
যাঁরা এই পরিবর্তনের আওতায় আসছেন, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসে যোগাযোগ করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি যাতে কোনো জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, তার জন্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে তথ্য জমা না দিলে পুরনো ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করতে হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী পদক্ষেপ ও নজরদারি
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের কাজ আগামী দিনে আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপভোক্তাদের সাড়া কেমন মিলছে এবং এই বিকল্প ব্যবস্থার ফলে আদতে সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পুরো তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর নতুন নিয়মে ভাতার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রদানের কাজ চূড়ান্ত করা হবে। এই বিষয়ে আরও আপডেট পেতে স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন অফিস বা পঞ্চায়েত দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।